"শুক্তো খেলে মন ভরে, স্মৃতি ফিরে যায় ঘরে"



ঐতিহ্যের থালা মানে কী জানেন?'শুক্তো'। বাঙালির দুপুরের ভাত মানেই শুক্তো চাই-ই চাই। করলার তেতো, সর্ষের ঘ্রাণ আর পাঁচফোড়নের ঝাঁজ মিলে এমন এক স্বাদ আনে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সবার মন জয় করে আসছে।

'তাই আজ স্বাদে আহ্লাদ-এর চৌকাঠে শুক্তর আগমন'--

মূলত নিরামিষ ভোজের শুরুতে খেয়ে থাকে, বিশেষ করে গরম ভাতের আগে।তিতকুটে স্বাদ করলা, উচ্ছে, পেঁপে, বেগুন, আলু, শিম ইত্যাদির সঙ্গে তেতুল, সর্ষে, মেথি, ঘি এবং কখনও নারকেলের দুধ মিশিয়েও এই অনবদ্য স্বাদ তৈরি করা হয় ভোজনের শুরুতে হালকা তিতকুটে ঝোল পাকস্থলী পরিষ্কার ও ক্ষুধা বাড়ায় এটাই বাঙালির খাবারের বৈজ্ঞানিক লজিক। কিন্ত পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের শুক্তোয় পার্থক্য আছে পূর্ববঙ্গে সামান্য ঝাল থাকে আর পশ্চিমবঙ্গে তুলনামূলক মিষ্টি-মোলায়েম স্বাদের।যেকোন পূজা,উৎসব , পূজা বা নিরামিষ ভোজে শুক্ত প্রায় অপরিহার্য।

   ■ তবে এবার এই  অতুলনীয় পদ এর রন্ধন প্রণালী জেনে নেওয়া যাক:- 
 
উপকরণ:-
করলা (উচ্ছে) – ২টি

》কাঁচা পেঁপে – ১ কাপ (কিউব কাটা)
》আলু – ২টি (লম্বা কাটা)
》বেগুন – ১ কাপ (লম্বা কাটা)
》শিম – ১ কাপ (টুকরো করা)
》মুলা – ১ কাপ (ঐচ্ছিক)
》সর্ষের বাটা – ২ টেবিল চামচ
》আদা বাটা – ১ চা চামচ
》মেথি – ১/২ চা চামচ
》তেজপাতা – ১টি
》শুকনো লঙ্কা – ২টি
》নারকেলের দুধ – ১/২ কাপ (ঐচ্ছিক, স্বাদে মোলায়েম হবে)
》ঘি – ১ টেবিল চামচ
》লবণ – স্বাদমতো
》চিনি – ১ চা চামচ (স্বাদ ব্যালান্স করার জন্য)
》জল – ২ কাপ
》সরষের তেল – ৩ টেবিল চামচ




  ■  রান্নার প্রস্তুতি:-

সবজি ধুয়ে কেটে নিয়েকরলা লবণ দিয়ে জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে এতে তিতা কমবে। চাইলে বাদও দেওয়া যেতে পারে।কড়াইতে সরষের তেল গরম করে মেথি, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দাওয়ার পর করলাগুল দিয়ে ভেজে তুলে নিতে হবে। এরপর বাকি সবজি দিয়ে অল্প নেড়ে লবণ দিয়ে ২ মিনিট ভেজে নেবার পর সর্ষের বাটা, আদা বাটা ও সামান্য জল দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। সবজি আধসেদ্ধ হলে করলা মিশিয়ে জল ঢালার পর ঢেকে মাঝারি আঁচে সবজি সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করার পরই নারকেলের দুধ দিলে শেষে মিশিয়ে ১ মিনিট ফুটিয়ে নামিয়ে নিলেই চিনি আর ঘি মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করা যাবে সাধের সুস্বাদু পদ।

শুক্ত সবসময় ভাতের আগে পরিবেশন করা হয়। এর তিতকুটে স্বাদ মূল খাবারের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়।


শেষ চুমুকে ঐতিহ্যের স্বাদ
শুক্তো শুধু পেট ভরায় না, মনও ভরিয়ে দেয়। করলার তেতো থেকে মুগ ডালের মোলায়েম স্বাদ—প্রতিটি কামড় যেন ফিরে যাওয়া শৈশবের রান্নাঘরে, যেখানে ভালোবাসা ছিল প্রধান উপকরণ।











Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

"আলুর সাথে পোস্ত, সুখের কতো রোস্ত"

রঙে-ঘ্রাণে ভরা রান্নাঘর – নারকেল-দুধে চচ্চড়ি"

“গন্ধে-মাখা তালের বড়া, মনে সুর তোলে সারা”